Bengal Stories Desk: সীমান্তের নদী লাগোয়া এলাকাগুলোতে অনুপ্রবেশ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সাপ ও কুমিরের মতো সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর ফিল্ড ইউনিটগুলোকে। বিএসএফ-এর একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
গ্রামবাসীদের জন্য ঝুঁকির আশঙ্কা
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই ‘সরীসৃপ বাহিনীর’ ব্যবহার সীমান্তের উভয় পাড়ের গ্রামবাসীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বা বন্যার সময় এই প্রাণীগুলো লোকালয়ে ঢুকে পড়লে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বর্তমান স্থিতি
স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গত ১৭ মার্চের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের চিত্রটি নিম্নরূপ:
* অনুমোদিত বেড়া: ৩,৩২৬.১৪ কিমি।
* সম্পন্ন হয়েছে: ২,৯৫৪.৫৬ কিমি।
* বাকি কাজ: প্রায় ৩৭১ কিমি।
দুর্গম ভূখণ্ড ও চ্যালেঞ্জ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক রিপোর্ট অনুসারে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পাহাড়, নদী এবং উপত্যকার মতো অত্যন্ত দুর্গম ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও বিএসএফ অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পাচার রুখতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
সরকার পর্যায়ক্রমে ফ্লাডলাইটসহ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে। যেসব এলাকায় Physical barrier নির্মাণ কঠিন, সেখানে প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে ‘নন-ফিজিক্যাল ব্যারিয়ার’ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নদীমাতৃক নিচু এলাকা, জনবসতির সান্নিধ্য, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদের কারণে বেশ কিছু অংশে বেড়া দেওয়ার কাজ ধীরগতিতে চলছে।
‘ডার্ক জোন’ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
গত ২৬ মার্চের একটি বার্তায় সীমান্ত এলাকার যেসব আউটপোস্টে (BOP) মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, সেগুলোকে ‘ডার্ক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইস্টার্ন কমান্ডকে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়েও রিপোর্ট তলব করেছে কর্তৃপক্ষ।
Source: The Hindu
