বেঙ্গল স্টোরিজ ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র দশ দিন আগে রাজ্যের শাসকদলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর ডিরেক্টরকে গ্রেপ্তার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সোমবার রাতে কয়লা পাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দিল্লি থেকে ভিনেশ চান্ডেল নামের ওই আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ইডি সূত্রে খবর, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ (PMLA)-র অধীনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

ভোটের ঠিক মুখেই এই পদক্ষেপকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার রাতেই নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে সরাসরি লেখেন, ‘ইডির এই পদক্ষেপে স্পষ্ট বার্তা, যদি বিরোধীপক্ষে কাজ করেন, তাহলে পরবর্তী টার্গেট আপনিই।’

এক্স হ্যান্ডেলের ওই সুদীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের মানুষ যখন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে এই ধরনের গ্রেপ্তারি আদতে গণতন্ত্রের ওপর এক বিরাট আঘাত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির দ্বিচারিতা আজ মানুষের সামনে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। অভিষেকের দাবি, যারা বড় বড় আর্থিক দুর্নীতিতে যুক্ত, তাদের সুকৌশলে রক্ষাকবচ দেওয়া হচ্ছে, আর অন্যদিকে বিরোধী দল ও তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষদের নিশানা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সেনাপতি। তাঁর মতে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সুদৃঢ় করাই যেখানে কমিশনের প্রধান কাজ হওয়া উচিত, সেখানে তাদের নজরদারিতেই ইডি এবং সিবিআই-কে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে।

তবে বাংলা যে এসব হুমকিতে ভয় পায় না, সেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এক্স হ্যান্ডেলের শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘অমিত শাহ ও বিজেপির ক্ষমতাবান সকলে, ৪ ও ৫ মে বাংলায় থাকুন। সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার এবং যে যে এজেন্সি আপনারা এখানে মোতায়েন করেছেন, সকলকে আনবেন। দেখবেন, বাংলার মানুষ এত সহজে মাথা নোয়াবে না। আপনাদের উচিত জবাব দেবে।’