Bengal Stories Desk: রাজ্য রাজনীতিতে এবার আছড়ে পড়ল প্রযুক্তির লড়াই আর তপ্ত বাক্যবাণ। বিদায়ী বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর এবং শাসকদল তৃণমূলের সংঘাত এখন পৌঁছে গিয়েছে চরমে। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গল স্টোরিজ) প্রকাশ করার পরেই শোরগোল পড়ে যায় রাজ্যজুড়ে। আর তার পাল্টা জবাবে হুমায়ুন কবীর যে রণংদেহি মেজাজ দেখালেন, তাতে ভোটমুখী বাংলায় নতুন বিতর্কের রসদ তৈরি হলো।

তৃণমূলের বিস্ফোরক দাবি ও সেই ফুটেজ

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘাসফুল শিবিরের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুন কবীরের একটি গোপন ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গল স্টোরিজ) সামনে আনা হয়। শাসকদলের দাবি, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর রেকর্ড করা ওই ১৯ মিনিটের ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গল স্টোরিজ)-তে দেখা যাচ্ছে বিজেপির সঙ্গে ‘ভোট কেনাবেচা’র দর কষাকষি করছেন হুমায়ুন। ফুটেজে শুভেন্দু অধিকারী, হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও মোহন যাদবদের নাম উল্লেখ করে ১০০০ কোটি টাকার বিনিময়ে বিজেপিকে সমর্থনের প্রস্তাব দিতে শোনা যাচ্ছে তাঁকে— এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের।

‘পুরোটাই এআই-এর কারসাজি’, পাল্টা তোপ হুমায়ুনের

তৃণমূলের এই পাহাড়প্রমাণ অভিযোগকে স্রেফ ‘ডিজিটাল জালিয়াতি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর সাফ কথা, সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে তাঁকে হারাতে না পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কৃত্রিম মেধা বা এআই (AI) ব্যবহার করে এই ভুয়ো ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গল স্টোরিজ) তৈরি করা হয়েছে। হুমায়ুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “১০০০ কোটি তো অনেক দূর, যদি ১ কোটি টাকার লেনদেনের সামান্যতম প্রমাণও কেউ দিতে পারে, তবে আমি নির্বাচনী রাজনীতি থেকে চিরতরে সন্ন্যাস নেব।”

আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি

বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক তরজায় সীমাবদ্ধ রাখতে নারাজ ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সাজানো ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গল স্টোরিজ)-র মাধ্যমে তাঁর সম্মানহানি করা হয়েছে। যদি এর সত্যতা প্রমাণিত না হয়, তবে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং ফিরহাদ হাকিমদের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মানহানির মামলা করবেন। হুমায়ুনের দাবি, সংখ্যালঘুদের বিপুল সমর্থন তাঁর দিকে ঝুঁকেছে দেখে তৃণমূল ভয় পেয়েই এই ‘এআই ষড়যন্ত্র’ ফেঁদেছে।

প্রযুক্তি বনাম রাজনীতি— এই দ্বৈরথ এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কিত ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গল স্টোরিজ)-র নেপথ্য কাহিনি সামনে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে হুমায়ুন ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া পেজে লিখেছেন,

“তৃণমূলের নোংরা রাজনীতির চরম নিদর্শন— AI ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে আমাকে দমানো যাবে না! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং কুনাল ঘোষ—যাঁরা এই নোংরা রাজনীতির কারিগর, তাঁদের আমি সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছি। আপনারা দাবি করছেন আমি নাকি ১০০০ কোটি টাকা নিয়েছি! ১০০০ কোটি তো অনেক দূরের কথা, যদি একটি টাকারও লেনদেনের প্রমাণ আপনারা দিতে পারেন, তবে বাংলার জনগণ আমাকে যে শাস্তি দেবে, আমি তা মাথা পেতে নেব। কিন্তু প্রমাণ করতে না পারলে, এই মিথ্যে অপপ্রচারের জন্য আপনাদের চরম আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *