Bengal Stories Desk: মালদা জেলা রাজনীতির এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান হল। প্রয়াত হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আবু হাসেম খান চৌধুরী। বুধবার রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। গত দুই মাস ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গনিখানের উত্তরসূরি থেকে ‘ডালুবাবু’
কিংবদন্তি রাজনীতিক এ.বি.এ. গনিখান চৌধুরীর ছোট ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী মালদাবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক সফর শুরু হয়েছিল কালিয়াচক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হিসেবে। তবে ২০০৬ সালে বড় দাদা গনিখান চৌধুরীর প্রয়াণের পর মালদা লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে পা রাখেন।
সংসদীয় জীবন ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব
২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি মালদা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইউপিএ-২ (UPA-II) সরকারের আমলে তিনি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলেছিলেন। জেলা রাজনীতিতে তিনি ছিলেন কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং কোতোয়ালি ভবনের অভিভাবক।
উত্তরাধিকার ও শেষ বিদায়
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনে বর্তমানে সাংসদ হিসেবে রয়েছেন তাঁর পুত্র ইশাখান চৌধুরী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে:
* মরদেহ কলকাতা থেকে সড়কপথে মালদায় নিয়ে আসা হবে।
* কোতোয়ালি ভবনে তাঁর নশ্বর দেহ শায়িত রাখা হবে গুণগ্রাহী ও সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধার জন্য।
* এরপর পারিবারিক প্রথা মেনে কোতোয়ালি সংলগ্ন কবরস্থানেই তাঁকে সমাহিত করা হবে।
তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মালদা সহ গোটা রাজ্য রাজনীতিতে। দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
