বাঁকুড়া: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম বাংলার রাজনীতি। রবিবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় নির্বাচনী জনসভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তৃণমূলের তথাকথিত ‘দুষ্কৃতী’ এবং ‘সিন্ডিকেট রাজ’ ইস্যুতে সুর চড়িয়ে সরাসরি আত্মসমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দিলেন তিনি।

এদিন বড়জোড়ার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি সরাসরি নির্দেশ দেন, “২৩ ও ২৯ এপ্রিলের আগে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। না হলে ৪ মে-র পর কেউ বাঁচবেন না।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

রাজ্যে তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ নিয়ে এদিন কড়া সমালোচনা করেন মোদি। বিশেষ করে বিষ্ণুপুর এলাকায় বালি ও কয়লা মাফিয়াদের দাপট নিয়ে তিনি বলেন, “টিএমসির গুন্ডা, সিন্ডিকেট চালানো, দুর্নীতিকারীরা ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের আগে নিজেদের থানায় আত্মসমর্পণ করুন। ৪ মে-র পর কেউ বাঁচবে না। কান খুলে শুনে রাখুন, এইসব চলবে না।” তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে শাসকদল।

কলকাতায় বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখানো এবং ধমকানি প্রসঙ্গে মোদি বলেন, এগুলি আসলে তৃণমূলের হারের আগেকার ‘একজিট পোল’। শাসকদলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে বলেই তারা এখন ভয় দেখাচ্ছে। তাঁর দাবি, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বাংলায় সরকার পরিবর্তন নিশ্চিত। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতা দখল করলে কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার উন্নয়নের জোয়ার আনবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।