নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সীমান্ত সংঘাত ও দুই দেশের কূটনৈতিক তিক্ততাকে এক চরম ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ। ভবিষ্যতে ভারত কোনো ‘দুঃসাহসিক’ পদক্ষেপ নিলে বা কোনো অজুহাতে সামরিক অভিযান চালানোর চেষ্টা করলে, তার পালটা জবাব হিসেবে আক্রমণ কলকাতা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হবে বলে নজিরবিহীন হুমকি দিয়েছেন তিনি।

​শিয়ালকোটের সংবাদ সম্মেলনে রণহুঙ্কার
​লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নিজের শহর শিয়ালকোটে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। তিনি সাফ জানান, ভারত যদি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে কোনো প্রকার অনুপ্রবেশ বা অভিযান চালানোর ধৃষ্টতা দেখায়, তবে পাকিস্তানও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এই উত্তেজনার আঁচ ভারতের পূর্ব প্রান্তের মেগাসিটি কলকাতায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তিনি সরাসরি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

​ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক এই বাকযুদ্ধের সূত্রপাত পহেলগাঁও হামলাকে কেন্দ্র করে। ওই হামলার পর থেকেই সীমান্তে অস্থিরতা ও দুই বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পায়।

সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন:
​”পাকিস্তান যদি ভারতকে আঘাত করার চেষ্টা করে, তবে ভারত এবার প্রয়োজনে সীমান্ত পেরিয়ে ওদের ঘরে ঢুকে মারবে।”
​রাজনাথ সিংয়ের এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা কড়া জবাবের পাল্টা দিতে গিয়েই এবার কলকাতার প্রসঙ্গ টেনে আনলেন পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।

​সাধারণত ভারত-পাক দ্বৈরথ উত্তর ও পশ্চিম ভারতের সীমান্ত এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু পাক মন্ত্রীর মুখে সরাসরি কলকাতার নাম আসায় জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশের কোনো মন্ত্রীর তরফে ভারতের একটি প্রধান মেট্রো শহরকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি অত্যন্ত বিরল ও উদ্বেগজনক। এই মন্তব্যের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *