Bengal Stories Desk : মালদার কালিয়াচকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নজিরবিহীন অশান্তি এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত ‘মূলচক্রী’কে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর পথে গ্রেপ্তার করা হয় পেশায় আইনজীবী তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোফাক্কেরুল ইসলামকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ।

বাগডোগরায় নাটকীয় গ্রেপ্তার

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মালদা কাণ্ডের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন মোফাক্কেরুল। তাঁর খোঁজে সিআইডির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সকালে তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে বেঙ্গালুরু পালানোর ছক কষেছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ তাঁকে বিমানবন্দর চত্বর থেকেই গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের ঠিক আগে ফেসবুকে একটি পোস্ট এবং ভিডিও বার্তায় মোফাক্কেরুল দাবি করেন, সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলাতেই তাঁকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটি কিছুক্ষণের মধ্যেই মুছে ফেলা হয়। উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, ধৃতকে কালিয়াচক থানায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলাসহ একাধিক ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে মালদায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা ও এনআইএ তদন্ত

গত বুধবার কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে প্রায় আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাজ্য প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানায়, আইন-শৃঙ্খলার এই চরম অবনতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণের পরেই নির্বাচন কমিশন দ্রুত বৈঠকে বসে এনআইএ (NIA)-র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার সকালেই এনআইএ-র আইজি সনিয়া সিংহ কলকাতায় পৌঁছেছেন এবং সেখান থেকে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মালদা রওনা দেবেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক রদবদল

ধৃত মোফাক্কেরুল ইসলাম উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা এবং ২০২১ সালে মিম (MIM) প্রার্থীর হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর এই গ্রেপ্তার নিয়ে হরিরামপুরের জনসভা থেকে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানান, দোষীদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। তবে একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অতি-সক্রিয়তা এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের দফায় দফায় বদলি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে প্যানেল ছাড়াই আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় অনভিপ্রেত।

বর্তমান পরিস্থিতি

কালিয়াচকের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৫ জন। বিচারকদের উদ্ধার করতে পুলিশের দেরি হওয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে উত্তরবঙ্গ পুলিশের বিশেষ শাখা। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *