Bengal Stories Desk : ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের হার্ডলস পার করা যাঁর মজ্জাগত, রাজনীতির ময়দানে নামার আগেই সেই এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে (Swapna Burman) পড়তে হয়েছিল কঠিন আইনি বাধার মুখে। তবে অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটল। ভারতীয় রেল এবং নির্বাচন কমিশনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে স্বপ্নার লড়াই এখন নিশ্চিত। সোমবার অর্থাৎ মনোনয়ন পেশের শেষ দিনে তিনি নিজের প্রার্থীপদ দাখিল করবেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
স্বপ্নার এই লড়াইয়ের সূত্রপাত তাঁর রেলের চাকরিকে কেন্দ্র করে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন তিনি। সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি পদত্যাগ করলেও, পদ্ধতিগত কারণে রেল কর্তৃপক্ষ তাঁর ইস্তফা গ্রহণ না করে তাঁকে ‘বরখাস্ত’ (Dismissal) করে। এই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত ও রেলের পক্ষ থেকে ‘নো ডিউস সার্টিফিকেট’ মিললেও মনোনয়ন পত্রের ২-বি ফর্মের একটি নির্দিষ্ট ধারা স্বপ্নার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়।
আইনি জটিলতা ও কমিশনের হস্তক্ষেপ:
জনপ্রতিনিধি আইনের (Representation of the People Act) নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মী যদি পদ থেকে বরখাস্ত হন, তবে তাঁকে প্রমাণ করতে হয় যে সেই বরখাস্তের কারণ দুর্নীতি বা রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যহীনতা নয়। এই মর্মে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ছাড়পত্র বা এনওসি (NOC) প্রয়োজন ছিল স্বপ্নার। শনিবার পর্যন্ত এই ছাড়পত্র না আসায় তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
রাজনৈতিক নাটক:
স্বপ্নার মনোনয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতেই রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। এমনকি দলগতভাবে খগেশ্বর রায়কেও বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। খগেশ্বর অনুগামীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাসে তিনি স্বপ্নার হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন। তবে আইনি জট কাটায় এখন রাজগঞ্জ শিবিরে স্বস্তির হাওয়া।
সব বাধা পেরিয়ে কমিশনের ছাড়পত্র হাতে পাওয়ায় এখন রাজগঞ্জে ঘাসফুল শিবিরের হয়ে স্বপ্নার লড়াই নিষ্কণ্টক। এক বিশাল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তিনি মনোনয়ন জমা দেবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
