Bengal Stories Desk : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আবহে মালদার কালিয়াচকে বিচারকদের হেনস্তা ও দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার ঘটনায় বেনজিরভাবে কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি (DGP), মালদার জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপারকে (SP) কারণ দর্শানোর নোটিশ বা ‘শোকজ’ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী সোমবার, ৬ এপ্রিল এই চার শীর্ষ আধিকারিককে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: মাঝরাত পর্যন্ত বন্দি বিচারক
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে কালিয়াচকে তিন মহিলা বিচারক-সহ মোট সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রাখে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় জেলাশাসক বা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছোননি। শেষপর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে রাত ১২টার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, ফেরার পথে বিচারকদের গাড়িতে পাথর ও লাঠি-বাঁশ নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি বিচারকদের সঙ্গে থাকা ৫ বছরের একটি শিশুও দীর্ঘক্ষণ খাদ্য-পানীয়হীন অবস্থায় ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও কড়া মন্তব্য
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনার রাজ্যে সবাই রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলেন। আমরা কি জানি না এই দুষ্কৃতীরা কারা?” আদালত স্পষ্ট জানায়:
এই ঘটনা কেবল বিচারকদের ভয় দেখানো নয়, সরাসরি আদালতকে চ্যালেঞ্জ জানানো।
এটি একটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ যাতে বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়।
রাজ্য প্রশাসনের আচরণ অত্যন্ত ‘নিন্দনীয়’ এবং এটি চরম ব্যর্থতার উদাহরণ।
সিবিআই বা এনআইএ তদন্তের ইঙ্গিত
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, মালদার এই ঘটনার তদন্ত সিবিআই (CBI) বা এনআইএ (NIA)-র মতো কোনও কেন্দ্রীয় স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে করাতে হবে। ওই সংস্থাকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে নতুন নির্দেশিকা
নির্বাচন কমিশনকে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ:
১. বিচারকদের বাসভবন এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. যেখানে নির্বাচনি অভিযোগ বা আপত্তি নিষ্পত্তির কাজ চলছে, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
৩. শুনানির সময় বিচারকদের এজলাসে এক সঙ্গে ৩ থেকে ৫ জনের বেশি মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করে জানান, নিরাপত্তার জন্য রাজ্যের ওপর নির্ভর করা আর বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। আদালতও বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণে ছেড়ে দিয়েছে।
